হুন্ডি ঠেকাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

image_print

ওয়াইডনিউজ ডেস্ক : বিদেশে মোবাইল ব্যাংকিং এর ‘ভুয়া এজেন্ট’ খুলে প্রবাসীদের থেকে অর্থ সংগ্রহ করে একটি জালিয়াত চক্র। এরপর সেই অর্থ তারা হুন্ডি করে দেশে পাঠায়। কিছু দিন ধরে অবৈধভাবে প্রবাসীদের আয় পাঠানোর প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্সে। এই অবস্থায় এটি বন্ধ করতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি এই লক্ষ্যেই পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে সহায়তা চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি অনুমোদন ছাড়াই মোবাইল ব্যাংকিং এর এজেন্টের নাম করে প্রবাসীদের থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে। পরে এইসব অর্থ ব্যাংক বহির্ভূত চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পাঠাচ্ছে।

ওই জালিয়াত চক্রের এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি মোবাইল ব্যাংকিং এর এজেন্ট খুলে প্রবাসীদের থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে। পরে তা অবৈধভাবে দেশে প্রেরণ করা হচ্ছে। যার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে, দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি বলেন, এটি বন্ধে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি আমরা। চিঠিতে বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনের মাধ্যমে এসব এজেন্টের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।

এর আগে গত বুধবার পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক লীলা রশিদের সই করা এক সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তাতে বলা হয়েছে, কতিপয় অসাধু ব্যক্তি এ সেবাটির অপব্যবহার করছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে যা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর। এ প্রেক্ষিতে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস এর অপব্যবহার রোধকল্পে এবং এর সুশৃঙ্খল ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে নির্দেশনাসমূহ প্রস্তুত করা হয়েছে, যা যথার্থভাবে পরিপালনের জন্য আপনাদেরকে পরামর্শ দেওয়া হলো।

এতে আরও বলা হয়, একজন ব্যক্তি কোনো এমএফএস প্রোভাইডারের সঙ্গে একাধিক মোবাইল হিসাব চলমান রাখতে পারবেন না। কোনো গ্রাহকের একই জাতীয় পরিচয়পত্র/ স্মার্ট কার্ড বা অন্য কোনো পরিচয়পত্রের বিপরীতে কোনো এমএফএসে একাধিক হিসাব থাকলে গ্রাহকের নিজের বিবেচনায় যেকোনো একটি মোবাইল হিসাব চালু রেখে অন্য হিসাবগুলো বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

একই সার্কুলারে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন সীমাও কমানো হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্যাশ-ইনের ক্ষেত্রে একজন গ্রাহকের দৈনিক সর্বোচ্চ লেনদেনের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দিনে তিনবারের বদলে এখন তা দুইবার করা যাবে। আর মাসে লেনদেনের সীমা দেড় লাখ থেকে কমিয়ে এক লাখ টাকা হয়েছে; এখন থেকে তা অনধিক ২০ বার করা যাবে।

আর ক্যাশ-আউটের ক্ষেত্রে গ্রাহক দিনে দুইবারে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। আর এক্ষেত্রে মাসিক লেনদেন সীমা সর্বোচ্চ এক লাখ থেকে কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে; আর এ সুযোগটি অনধিক ১০ বার নেওয়া যাবে।

সার্কুলারে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে কোন একটি মোবাইল হিসাবে ক্যাশ-ইন হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই হিসাব থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকার বেশি নগদ উত্তোলন (ক্যাশ-আউট) করা যাবে না। এ ছাড়া কোনো হিসাবে ৫ হাজার টাকা কিংবা তারচেয়ে বেশি নগদ অর্থ জমা (ক্যাশ-ইন) বা উত্তোলন (ক্যাশ-আউট) করার ক্ষেত্রে গ্রাহককে তার পরিচয়পত্র/স্মার্ট কার্ড বা তার ফটোকপি এজেন্টকে প্রদর্শন করতে হবে এবং এজেন্ট গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ রাখবেন।

image_print

Be the first to comment on "হুন্ডি ঠেকাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*


Pin It on Pinterest