লন্ডনে ওসমানীর নামে থাকা স্কুলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত

image_print

ওয়াইডনিউজ ডেস্ক : মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর নামে লন্ডনে থাকা স্কুলটির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ওসমানী প্রাইমারি স্কুল পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান মাইক টেলরের সই করা এক চিঠিতে একথা জানানো হয়েছে। আগামী সপ্টেম্বরে স্কুলটির নাম ভ্যালেন্স স্কুল করা হবে। তবে স্কুলের নাম পরিবর্তনের কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় কাউন্সিলর সুলুক আহমেদ বলেছেন , ‘মুসলিম ও বাংলাদেশি নামের কারণে ভিন্ন সংস্কৃতির শিক্ষার্থীরা এ স্কুলে পড়তে তেমন আগ্রহ প্রকাশ করছে না বলে মনে করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেকারণেই তারা এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে।’

১৯৮৬ সালে পূর্ব লন্ডনের ভ্যালেন্স রোডে ওসমানীর নামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনারেল ওসমানীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বিবেচনা করে তার নামে স্কুলটির নামকরণ করে স্থানীয় বাংলাদেশিরা। এ স্কুলের প্রায় ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থীই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। গত সপ্তাহে স্কুল পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যানের এমন সিদ্ধান্তে হতাশা ও ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে কমিউনিটি ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র জন বিগস এক বিবৃতিতে ওসমানী স্কুলের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ নাম পরিবর্তনের আগে নির্বাহী মেয়রের সঙ্গেও কোনও যোগাযোগ করেনি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

লন্ডনে ওসমানী ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খান বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে আমি মর্মাহত। আমার মতে, কমিউনিটির সবাইকে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত।’

পাবলিক কনসালটেশন ছাড়া স্কুল কর্তৃপক্ষের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনলাইন পিটিশন খুলেছেন টাওয়ার হ্যামেলটস কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর ওহিদ আহমেদ। ইতিমধ্যে ১ হাজারের মতো স্বাক্ষর জমা পড়েছে।

কমিউনিটি নেতা কে এম আবু তাহের চৌধুরী বলেন, কোনও ধরনের আলোচনা ছাড়াই স্কুলের নাম পরিবর্তন করা অযৌক্তিক ও অন্যায়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে অপমান করা হয়েছে। তিনি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

image_print

Be the first to comment on "লন্ডনে ওসমানীর নামে থাকা স্কুলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*


Pin It on Pinterest