একটি সেতু বদলে দিতে পারে ত্রিশ গ্রামের চিএ

image_print

জসিম উদ্দিন জয়নাল, খাগড়াছড়ি: পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার চেঙ্গী নদীর উপরে একটি সেতু বদলে দিতে পারে এিশ গ্রামের চিএ।সেতু না থাকার কারনে এলাকা বাসী বছরের পর বছর দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার কেয়াংঘাট ইউনিয়নের এিশ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ নৌকাদিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রতিদিন নদী পার হতে গিয়ে প্রতিবছরই হারাচ্ছেন জীবন ও সম্পদ সেতুটি নির্মিত হলে মানুষের যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাবে। খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার কেয়াংঘাট ইউনিয়নের পশ্চিম পাশ দিয়ে চেঙ্গী নদী গিয়ে মিলিত হয়েছে কর্ণফুলী নদীর সাথে। চেঙ্গী নদীর পূর্বপাড়ে মহালছড়ি উপজেলার কেয়াংঘাট ইউনিয়নে এিশ টি পাহাড়ী বাঙ্গালী গ্রামের অবস্থান।লোকসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। এরমধ্যে ৫৫ হাজার ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের লোকজন। কেয়াংঘাট ইউনিয়নে ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও এসব গ্রামে নেই কোন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। ফলে প্রায় পাঁচ শতাধিক স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীকে নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত মহালছড়ি সদরের কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন আসতে হয়। কিন্তু কেয়াংঘাট ইউনিয়নের পাশে অবস্থিত চেঙ্গী নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে ছাত্রছাত্রীসহ পুরো ইউনিয়নের এিশ গ্রামের হাজার-হাজার মানুষ বিচ্ছিন্ন ভাবে জীবন-যাপন করেন বর্ষা মৌসুমে নৌকায় দিয়ে নদী পার হতে গিয়ে প্রতিবছর ৫/৭জন করে এলাকার মানুষ জীবন দিতে হয় স্হানীয় এলাকাবাসী বলেছেন গত ৪০ বছরে এই কেয়াংঘাটের চেঙ্গী নদীতে জীবন দিয়েছে প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বিক্রি করতে পারেনা ফলে তাদের লোকসান গুনতে হয়।

স্হানীয় বাসিন্দা বির লাল চাকমা বলেন ১টি সেতু না থাকায় প্রতিনিয়ত তাদের দূর্ভোগের কোন শেষ নেই ছেলেমেয়েরা সঠিক সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। তাদের যোগাযোগে অনেক সমস্যা। কোন সময় এলাকার কোন লোক অসুস্থ হলে সময় মতো তাদেরকে ডাক্তারের কাছে নেওয়াটা কঠিন হয়ে যায়। কেয়াংঘাট এলাকার বাসিন্দা রূপময় চাকমা বলেন প্রতি বছর নদী পার হতে গিয়ে কেউনা কেউ মরছে। গত ৪০ বছরে প্রায় শতাধিক লোক মারা গেলেও কেউ তাদের মরন যন্ত্রনা অনুধাবন করতে পারেনি শুধু একটি সেতু না থাকার কারনে। ছাত্রছাত্রীরা যেমন ভুগছে, তেমনি ভুগছে কৃষকেরা। তারা তাদের উৎপাদিত পন্য বিক্রি করতে পারছেন না অনেক সময় উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হয়ে যায় ফলে তারা অর্থিক ভাবে ক্ষতি হচ্ছে।

সুসমা চাকমা নামের আরো এক এলাকাবাসী বলেন, কেয়াংঘাটে একটি মাত্র নৌকা। এই নৌকা দিয়ে ১০/১২জনের বেশী পারাপার হতে পারেনা। সকাল বেলায় স্কুল কলেজে পড়া শতশত ছাত্রছাত্রীসহ অনেক ঘাটে ভিড় করে। ফলে সময় মতো কেউ ঘাট পেরোতে পারেনা। ঘাটের আশে- পাশে কোন যাত্রী ছাউনী নেই। ফলে বষাকালে তাদের সকলকে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। কেয়াংঘাট ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান মেম্বার মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, কেয়াংঘাট ইউনিয়ন হতে মহালছড়ি সদরে যাওয়ার জন্য মাইসছড়ি ইউনিয়ন দিয়ে একটি বিকল্প রাস্তা আছে। সেখান দিয়ে মহালছড়ি গেলে প্রায় ১৬ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। যাতায়াতে ভাড়া পড়ে প্রায় ২০০ টাকা। আর কেয়াংঘাট ইউনিয়নের পশ্চিম পাশ দিয়ে একটি সেতু হলে মহালছড়ি সদরের দুরুত্ব দাঁড়াবে ৭/৮ কিলোমিটার এবং ৫০/৬০ টাকা খরচ হবে। তিনি আরো বলেন, শুধু একটি সেতুটি নির্মাণ করা হলে কেয়াংঘাট ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের যোগাযোগ সহজ হবে। কেয়াংঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চাকমা বলেন, তিনি বিভিন্ন সময় সেতুটি করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন, চিঠি দিয়েছেন, কিন্তু ফল হয়নি।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো: রাশেদুল ইসলাম বলেন, তিনি এলাকাবাসীর দুঃখ ও কষ্ঠের কথা শুনেছেন। এছাড়া প্রতিবছর যে জীবন ও সম্পদহানী হচ্ছে এই বিষয়টিও তিনি অবগত আছেন ব্রীজটি নির্মিত হলে এলাকা বাসীর যোগাযোগ ব্যবস্হা উন্নতি হবে। এই বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীসহ স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি লিখবেন এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন জনগণের সমস্যা গুলো বিবেচনা করে সেতুটি উদ্যোগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

এদিকে খাগড়াছড়ির স্হানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল এিপুরা বলেন বর্তমান সরকার উন্নয়নের সরকার আশা করি আমি সেতুটি নির্মানের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি বার্জেট হলে সময় মতো কাজ হবে বলে আশা করছি।

image_print

Be the first to comment on "একটি সেতু বদলে দিতে পারে ত্রিশ গ্রামের চিএ"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*


Pin It on Pinterest