সুপ্রিমকোর্ট থেকে গণভবন অথবা বঙ্গভবনের দুরত্ব কয়েক লক্ষ কিলোমিটার

image_print

ওয়াইডনিউজ ডেস্ক: নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট দাখিল না করে উল্টো আবারো সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ‘আমার মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর ঢাকা। এই শহরের সুপ্রিমকোর্ট থেকে গণভবন অথবা বঙ্গভবনের দুরত্ব কয়েক লক্ষ কিলোমিটার। আড়াই বছরেও যেহেতু এই দুরত্ব পাড়ি দেয়া সম্ভব হয়নি। আড়াই হাজার বছরেও তা পাড়ি দেয়া সম্ভব হবে না।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, আড়াই বছরে এখান থেকে ওইখানে ফাইল চালাচালির সময় লেগেছে কিন্তু গেজেট জারি করা সম্ভব হয়নি। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এ বিষয়ে আইন করার জন্য।

গত ৪ এপ্রিল বিধিমালার গেজেট জারি করে ৮ মে’র মধ্যে আপিল বিভাগে দাখিল করার জন্য সরকারকে সময় দিয়েছিল আপিল বিভাগ। কিন্তু আজ সোমবার সকালে এটর্নি জেনারেল গেজেট দাখিল না করে আবারো দুই সপ্তাহ সময় চান। আবেদনের পাঁচটি কপি আপিল বিভাগের পাঁচজন বিচারপতির কাছে পেশ করেন। এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি এটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বলেন, ‘এটা কি? গেজেট নয়? আবারো সময় আবেদন দিয়েছেন?’ আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিয়া বলেন, বন্ধের আগে আপনাকে লম্বা সময় দেয়া হয়েছিল। তখন আপনি আমাদের কি বলেছিলেন? আবারো সময় চেয়ে আবেদন দাখিল করলেন?

বিরক্ত হয়ে এটর্নি জেনারেলকে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘‘বলুন তো পৃথিবী সবচেয়ে বড় শহর কোনটি? নিউইয়র্ক না টোকিও?’’ এটর্নি জেনারেলের জবাব, আমার মনে হয় টোকিও।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘কেউ কেউ বলে নিউইয়র্ক। আপনি কি জানেন টোকিও বা নিউইয়র্ক শহরের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে যেতে কত ঘণ্টা সময় লাগে? ওই প্রান্তে যেতে ৫/৬ ঘণ্টা সময় লাগে।

পরে প্রধান বিচারপতি সরকারকে এক সপ্তাহ সময় দেন। কিন্তু এটর্নি জেনারেল বলেন, আমার এক সপ্তাহ সময়ে হবে না। নাহলে আমাকে আবারো সময় চেয়ে আদালতে দাঁড়াতে হবে। এরপর প্রধান বিচারপতি এক সপ্তাহ সময় দিয়ে শুনানি মুলতবি করেন।

image_print

Be the first to comment on "সুপ্রিমকোর্ট থেকে গণভবন অথবা বঙ্গভবনের দুরত্ব কয়েক লক্ষ কিলোমিটার"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*


Pin It on Pinterest